রাজধানীর তুরাগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ! বন্ধুর বিরুদ্ধে বন্ধুর মামলা

মাহফুজুল আলম খোকন-

রাজধানীর তুরাগে প্রায় কোটি টাকা আত্ম্নসাতের অভিযোগে এক বন্ধুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে আরেক বন্ধু। খেটে খাওয়া দিন মজুরের টাকা আত্মসাতসহ নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

মামলার এজাহার ও এলাকাবসীর সূত্রে জানা যায়, তুরাগের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক হরিরামপুর ইউপির মেম্বার হাজী মো. কফিল উদ্দীনের ছেলে মো. সেলিম মিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধু মো. সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে পঞ্চাশ লাখ টাকার চেক ও নগদ সাড়ে ২৩ লাখ টাকাসহ মোট ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দাঁয়ের করেছেন। তার অভিযোগ ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার নিকট থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য সেলিম মোল্লা ব্যাংকের চেক জমা রেখে নগদ পঞ্চাশ লাখ টাকা ধার নেয় এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রায় ২৪ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় করেন বাকিতে। কথা ছিলো বাড়ি নির্মাণ হওয়ার আগেই সকল পাওনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু দেই দিচ্ছি করে টাকা না দিয়ে নিয়মিত প্রতারণা আরম্ভ করেন সেলিম মোল্লা একপর্যায় বাকিতে নির্মান সামগ্রী ক্রয়ের ও ধার নেয়া নগদ টাকা দিতে অস্বীকার করলে দু’জনের মধ্যে বাকবিত-ার সৃষ্টি হয়। পরে সেলিম মোল্লার জামানত

হিসেবে দেয়া চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করেন। এই বিষয়ে ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন,পরবর্তীতে তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই কর্তৃক তদন্তাধিন রয়েছে। দুই বন্ধুর এহেন কা- নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে সরেজমিনে তুরাগের নলভোগ এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বিবাদী সেলিম মোল্লা তার বাড়ি নির্মাণ করা শ্রমিক, কন্ট্রাকটার আব্দুল আলী, ইট বালি টানা লেবার মো. বাবুল মিয়ার কাজের বিলও পরিশোধ করেননি। সাংবাদিক পরিচয় জেনে কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, দিন মজুর বাবুল মিয়া। এছাড়াও মো. কেরামত আলী নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধু সেলিম মোল্লার নির্মাণাধীন বাড়ির রাস্তা নিয়ে আপন মামা হাজ্বী মনিরের সাথে মারামারি করে মামলায় জড়ান ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া ও তার বাবা হাজ্বী কফিল উদ্দিন মেম্বার। এছারাও সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে এক নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। তদন্তের সার্থে এই মুহূর্তে সেই নারীর নাম প্রকাশ করা যাচ্ছেনা। অভিযুক্ত সেলিম মোল্লা গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মো.শফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে। বর্তমানে তুরাগের বাসিন্দা হলেও বিশেষ কারনে সেখানে থাকেন না তিনি। গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এই বিষয়ে মো. সেলিম মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার সকল অভিযোগ মিথ্যা,আমিও আদালতে মামলা করেছি, পিবিআই তদন্ত করছে। কেরামতের টাকার বিষয়টি সত্য, আমার হাতে টাকা আসলে আমি দিয়ে দিবো। লেবাররা আমার কাছে কোন টাকা পাবে না।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply