ইয়াবার নতুন রোড় কুড়িগ্রাম-টু-গাজীপুর ! নেতৃত্বে রৌমারীর তাজুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট:

একাধিক বউ, একাধিক বাসা! একাধিক মোবাইল নাম্বার! কখনও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এর গাছা থানা এলাকা,কখন বাসন থানা এলাকার, আবার কখনও বা কোনাবাড়ী ! কয়েকটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। বলছিলাম, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ধনারচর নতুন গ্রাম এলাকার জসিম উদ্দিন এর ছেলে তাজুল ইসলাম এর কথা ! রৌমারী মাদকের আন্তর্জাতিক রুট হওয়ায় তিনি রৌমারীর গয়টাপাড়া, চরবামনেরচর, খেতারচর, ছাটকড়াইবাড়ী, ধর্মপুরের সব মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত! রৌমারী পুলিশকে ম্যানেজ করে সেখান থেকেই তার ইয়াবার বড় বড় চালান যায় গাজীপুরে। মালভর্তি ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, আবার প্রাইভেট গাড়ি, মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুল্যান্সেও ইয়াবার চালান পাচার করে গাজীপুরে নিয়ে যায় তাজুল ইসলাম।
মুলত তিনিই কুড়িগ্রাম থেকে গাজীপুরে মাদক পাচার চক্রের মূল হোতা !

নিজেকে সন্দেহের তালিকার বাহিরে রাখতে এবং নির্বিগ্নে ইয়াবা পরিবহনের কাজ করতে চাকুরী করতেন টিম ফার্মাসিউটিক্যাল নামক এক ওষধ কোম্পানীতে । প্রাইভেট গাড়ীতে “জরুরী ওষধ সরবরাহ ” ষ্টিকার এবং মোটরসাইকেলের সামনে ডাক্তার ষ্টিকার লাগিয়ে নির্বিগ্নে কুড়িগ্রাম থেকে গাজীপুরে ইয়াবা পাচার করতের তাজুল। সেই সুবাদে এলাকায় সে ডাক্তার নামে পরিচিত ।

আর্থিক অনিময়, এবং মাদক ব্যাবসায় অভিযোগে টিম ফার্মাসিউটিক্যাল এর মার্কেটিংয়ের চাকুরীর চলে যায়্। এরপর নিরাপদে নিজের মাদক ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে বাসন থানার কয়েকজন পুলিশের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে স্থানীয় মাদক ব্যাবসায়ী এবং মাদকসেবীদের পুলিশে ধরিরে দিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজনদের কাছে সন্দেহের বাহিরে থাকতেন তাজুল ।

গত জুলাই মাসে তাজুলের মাদক ব্যবসার বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার জন্য বিভিন্ন তথ্য ,ছবি, ভিডিও সংগ্রহ করায় খবর জেনে ফেলায়, গাজীপুর জেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক তুহিন সারোয়ারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় তাজুল ও তার মাদক সিন্ডিকেটের। ওই চক্রটি এক রাতে ওই সাংবাদিকের বাসায় অতর্কিতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ফাকা স্ট্যাম্পে ওই সাংবাদিকের সাক্ষর নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই এলাকার মানূষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেয়ে মানুষসহ তাজুলের ইয়াবা সেবনের দূশ্য, এবং গোপন ক্যামেরায় একটি মেয়েকে ধর্ষনের ভিডিও ভাইরাল হবার পরেই তাজুলের ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিষয় সবাই জেনে যায় ।

কুড়িগ্রাম যাদুরচর এলাকার আফজাল হোসেন নামের এক মাদক ব্যবসায়ী বলেন, তাজুল রৌমারীতে গোপনে আসে। গাজীপুরে তার রয়েছে মাদকের অনেক বড় চ্যানেল। গয়টাপাড়া, চরবামনেরচর, খেতারচর, ছাটকড়াইবাড়ী, ধর্মপুরের কয়েকটি রুটে তার ইয়াবার বড় বড় চালান গাজীপুরে যায়। কিন্তু তাজুল থেকে যান ধরা ছোয়ার বাইরে। রৌমারী পুলিশকে ম্যানেজ করে মালভর্তি ট্রাকেও ওঠানো হয় ।

নগরীর কোনাবাড়ী থানার আবু সাইদ নামের পুলিশের এক এসআই কে নিজের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে সে এলাকায় বিভিন্ন মানুষদের হয়রানী করছে বলে অভিযোগ জানান, কলম্বিয়া রোড়ের ডিম ব্যাবসায়ী রতন । কিছুদিন আগে বাসন থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিমুল নামের এক যুবককে ইয়াবা দিয়ে ফাসিয়ে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবিষয়ে ভুক্তভুগি শিমুল জানান, তাজুল আামাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে কণম্বিয়া রোড়ে মাথায় যেতে বলে ,আমি সেখানে যাবার পরই কয়েকজন পুলিশ আমাকে ইয়াবা ব্যাবসার অভিযোগে ধরে নিয়ে যায় এবং পওে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাতে ছেড়ে দেওয়া হয় ।

এবিষয়ে কোনাবাড়ী পুলিশ ফাড়ির এসআই আবু সাইদকে ফোন করে প্রশ্ন করা হলে তিনি ঘটনার সত্বতা স্বীকার করে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেয়ে মানুষসহ তার ইয়াবা সেবনের দূশ্য ভাইরাল হবার পরই বিষয়টি আমি দেখেছি এবং লোক মুখে শুনেছি ! তাজুল ইসলাম সে আমার এলাকার তবে সে আমার ভাই নয় ! যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে যদি সে মাদক ব্যাবসা করে তাহলে নিকটস্থ থানায় খবর দিয়ে আইনে সোপর্দ করে দিবেন ।

এই বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, তাজুলের বিরুদ্ধে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply