এডিসি মশিউরের বদলির আদেশ হলেও রয়েছেন বহাল তবিয়তে

অনলাইন ডেস্ক- বারবার বদলির আদেশ গাজীপুর জেলা ছাড়তে চান না এডিসি মশিউর। এডিসি মশিউর রহমানের – দপ্তরের এলএ শাখা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তবুও তিনিই বহাল তবিয়তে কেন ? গাজীপুর জেলা প্রশাসনে সর্বাধিক আলোচিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান। বেশিরভাগ সময় ধরেই দখল করে আছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর চেয়ার। বারবার বদলির আদেশ হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রশাসনের এ কর্মকর্তা। জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে যোগদান করেন মশিউর রহমান। এ সময়ে তার দপ্তরের এলএ শাখা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় দিনে দিনে জনসাধারণের ভোগান্তি ও হয়রানি বেড়েই চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এডিসি মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ পড়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও অগ্রগতি নেই। একবার তাগিদপত্রও দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ অধিশাখা থেকে মশিউর রহমানকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিটে বদলি করা হয়। পরে তাকে অবমুক্ত না করে চার মাস পর ৯ জুন বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। চলতি বছরের ৩১ মে মশিউর রহমানকে আবারও ২৮১ নম্বর স্মারকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলির আদেশ হয়েছে। তবে গত প্রায় এক মাসেও তাকে অবমুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবারও ওপর মহলে তদবির করে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। যদিও একই তারিখে বদলি হওয়া জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাসরীন পারভীন চলতি সপ্তাহে গাজীপুরে যোগদান করেছেন। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মশিউর রহমানের বদলির প্রথম আদেশের মাসে ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহেনুর আলমকে বিয়াম ফাউন্ডেশনে বদলি করা হয়। এরপর তাকে দ্রুত অবমুক্ত করা হয়। এ ছাড়া যে তারিখে মশিউর রহমানের বদলির আদেশ বাতিল হয়, ওই একই তারিখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু নাসার উদ্দিনকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়। তিনিও যথারীতি দ্রুত অবমুক্ত হন। প্রশ্ন উঠেছে, মশিউর রহমানের বদলির আদেশের পর একই পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তার বদলির আদেশ কার্যকর হলেও তার ক্ষেত্রে হচ্ছে না কেন? সার্ভিস রুলসের কোন ব্যত্যয় ঘটছে কী? এ ব্যাপারে এডিসি মশিউর রহমানের সাথে মোবাইলে দুই দিন যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি কেটে দেন। পরে তার মেসেজ পেয়ে বিষয়টি উল্লেখ করে মেসেজ পাঠালে আর সাড়া পাওয়া যায়নি।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply