গাজীপুরে বর্জ্যের উৎকট গন্ধে আকাশ বাতাস দুষিত, ভয়ংকর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানূষ

তুহিন সারোয়ার –
গাজীপুরে ময়লা শোধনাগার না থাকায় কারখানাসহ বাসা-বাড়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, নগরীর গাছা থানার অর্ন্তগত, গাজীপুর মহানগরের ৩৬ নং ওয়াডর্ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন গাছা রোড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে মহাসড়ক এবং গাছা রোড়ে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী ও আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন অধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় কয়েক বছর ধরেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংলগ্ন গাছা থানার অর্ন্তগত ,মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের জায়গায়
তৈরি করা হয়েছে বর্জ্যের ভাগাড়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, হাসপাতাল ও বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গাছা রোড় এলাকায় বর্জ্যের বিশাল স্তূপ রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্যের কারণে আশপাশের এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে।
সড়কের পাশে রাখা বর্জ্যের উৎকট গন্ধে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা রোড় এলাকার ব্যবসায়ী “আল্লাহর দান মটরস” এর মালিক মফিজুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায় বর্জ্যের উৎকট গন্ধে চরম হলেও সন্ধ্যার পর বর্জ্যের সৃষ্ট মসা এবং মাছির কারনে দোকেনে বসা যায়না , দোকানে কোন কাষ্টমারও আসতে চায়না ।

গাছা রোড়ের আনোয়ার নামের এক মুদি ব্যাবসায়ী বলেন, ব্যবসা করার মত
এখন আর সেই পরিবেশ নেই। মহাসড়কের পাশে রাখা বর্জ্যের দুর্গন্ধে দোকানে বসলেই বমি চলে আসে।
গাছা রোড়ের ওয়েসিস ফ্যাশন নামক এক গামের্ন্টস কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই রোড়ে ১৫-২০টি, মিল ফ্যাক্টরী রয়েছে , আর সেসব কল-কারখানার হাজার হাজার শ্রমীকরা প্রতিদিন অফিসে যাওয়া আসা করেন এই রোড় দিয়ে , গাছা রোড়ে পাশে রাখা বর্জ্যের কারণে চলাফেরা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় শ্রমীকরা শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন, ।
গাছা বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষক আবু জাফর জানান,
গাছারোড়ে বর্জ্যের স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। গভীর রাত থেকে দুপুর পযর্ন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্জ্য এনে এখানে রাখা হয়। এসব বর্জ্যের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
আলম এশিয়া পরিবহনের চালক মফিজুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগেও মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় সড়ক বিভাজনে ফুটে থাকা ফুলের ঘ্রাণ পেতাম। তখন সড়কের উন্নয়ন নিয়ে যাত্রীরা সরকারের প্রশংসা করতেন। এখন বর্জ্যের দুর্গন্ধে গাড়ি চালাতেই ইচ্ছা করে না।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হাসান ইউসুফ খাঁন বলেন, পৃথিবীর কোনো সভ্যদেশে এভাবে সড়কঘেঁষে বর্জ্য ফেলার নজির নেই। হাজার কোটি টাকা খরচ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকার সড়কের উন্নয়ন করলেও বর্জ্যের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। খোলা স্থানে এভাবে বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান অলবিডি কে বলেন, উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা স্বস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। এসব বর্জ্যে অনেক ‘ডাস্ট পার্টিকল’ রয়েছে, যা বাতাসে ওড়ে। আমরা আবার তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করি। ফলে আমাদের ফুসফুস আক্রান্ত হচ্ছে, নানা ধরনের রোগবালাই বাড়ছে।

আমাদের ফুসফুস একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত ‘ডাস্ট পার্টিকল’ গ্রহণ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি হলেই আমরা রোগে আক্রান্ত হই। এছাড়া এসব বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ ছড়াতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও ফুসফুস ক্যান্সারের। কাজেই এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা বা বর্জ্য ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ময়লা সবসময় ঢেকে পরিবহন করা উচিত। একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ম অনুযায়ী ডাম্পিং করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন হতে হবে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন অলবিডিকে বলেন, সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলে রাখা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা কোনোভাবেই এটা বন্ধ করতে পারছি না। এ কাজে আমরা অনেকটা ব্যর্থ। সরকারের প্রতিটি দপ্তরের সভায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও ফল পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধে আমরা এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠিয়েছি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেনের কাছে ফোন করে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply