বিয়ে করে প্রতারনা করাটা যার পেশা ! ডজন খানেক বিয়ে.. অতপর মামলা !

গাজীপুর সংবাদদাতা –

গাজীপুরে সাংবাদিকতা পেশা এবং আইপি টিভির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে প্রেম এবং বিয়ে করে প্রতারনার মাধম্যে   বিভিন্ন মেয়েদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে  সাংবাদিক নামধারী ,তোফায়েল আহমেদ (২৮)   এর বিরুদ্ধে ।

গাজীপুর মহানগরে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন বিভিন্ন মেয়েদের আইপিটিভিতে নিউজ প্রেজেন্টার এবং বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক   সেন্টারে ভাল বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে চাকুরী দেবার নাম করে বিজ্ঞাপন দিতেন, তারপর চাকুরী প্রাত্যাশী   মেয়েদের সঙ্গে গড়ে তুলতেন প্রেমের সম্পর্ক। তারপর নকল গার্ডিয়ান বানিয়ে সেই মেয়েদের পরিচয় করিয়ে দিতেন সেই নকল গার্ডিয়ানের সাথে।

 

তোফায়েলের প্রতারনার স্বীকার এমন একাধিক ভুক্তভুগিরা জানান,

মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করার পর এক পর্যায়ে ভুয়া কাজী এনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতেন। তার পর কিছুদিন যেতে না যেতেই  স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখতেন তিনি।নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে  গোপনেই চলত তাদের   দাম্পত্য জীবন। তবে কিছুদিন পরই   তোফায়েল আহমেদ নামের সেই ব্যক্তির আসল রূপ দেখে আঁতকে উঠতেন ভুক্তভোগী নারীরা।   বিয়ের কিছু দিন না যেতেই শারীরিক   মানসিক নির্যাতন  এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। ভুক্তভোগী মেয়েরা যেন   কোন প্রকার আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারে   সেই জন্য অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ,ছবি দিয়ে করেন ব্ল্যাকমেইল করতেন তোফায়েল   আহমেদ।

এ পযর্ন্ত তার নিজ এলাকা সিলেটসহ গাজীপুর এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় আসল এবং নকল মিলিয়ে  ১২টির মত মেয়েকে  বিয়ে করে   সংসার এবং সবার সাথে প্রতারনা করে অর্থ  আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তোফায়েল আহমেদ এর   বিরুদ্ধে ।

তোফায়েল, সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কান্দিগাও গ্রামের জহির আলীর বড় ছেলে ।

বহুরূপী এ প্রতারক প্রায় ৭/৮ বছর আগে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করছিলেন। সেই সুবাদে গাজীপুরেই   বসবাস করেন। এর মধ্যে বসবাসরত এলাকায় সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। আর এই পরিচয় ব্যবহার করে   একাধিক নারীকে প্রেম এবং বিয়ের ফাদে  ফেলেন তিনি ।

পাশাপাশি  বিভিন্ন সরকারী ডাক্তারদের সাথে সক্ষতা থাকায় প্রমোশন দেবার নাম করে বিভিন্ন ডাক্তারদের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডাক্তার ।

একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সংবাদকর্মী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি প্রতারণাও করে আসছিলেন দির্ঘদিন। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে আইনি সমস্যা সমাধান করে দেবে বলেও মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন ।

পাশাপাশি আইনি জটিলতা আছে কিংবা আদালতে বিচারাধীন এমন মামলার জমি উদ্ধারের নাম করে বিবদমান পক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। এমনও অভিযোগ রয়েছে তোফায়েলের বিরুদ্ধে।

তোফায়েল আহমেদ গাজীপুরের একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে দিনের পর দিন, এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন  ।

 

সম্প্রতি  গাজীপুর কাপাসিয়া নিবাসী শাহরিয়ার (২১) নামক এক মেয়েকে বিয়ে এবং নির্যাতন করে টাকা আদায়ের অভিযোগে প্রতারনা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে  তোফায়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পরেই তোফায়েলের অপকর্মের বিষয়টি সবার নজরে আসতে শুরু করে।  গাজীপুর সিআর মামলা নং-২০৭/২০২২ । উক্ত মামলায় আদালত অভিযুক্ত তোফায়েলের বিরুদ্ধে ২৮/৩/২০২২  তারিখে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন ।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী  অভিযোগ করেন প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে, বিয়ের পর বিভিন্নভাবে কৌশলে আমার পরিবারকে বুঝিয়ে নগদ টাকা, প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার হাতিয়ে নিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।

ভুক্তভুগি শাহরিয়ার আরো  বলেন, এক সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার এক পর্যায়ে সে ফেসবুকে আমাকে অ্যাড করে। সেখানে কাজের বিষয় নিয়ে আলোচনা কথাবার্তা হত। কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায় কোন সখ্যতা গড়ে না ওঠায়,এক পর্যায়ে সে তার পরিবারের  লোকজন দিয়ে আমার সাথে কথাবার্তা শুরু করে। তার খালা প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে পাঁচ সাত বার ফোন করে খোঁজ খবর নিতেন। তার এবং তাদের কথার মুগ্ধতায় আমি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত  নেয়। বিয়ের পর পূর্বের সাথে বাস্তবের কোন মিল ছিল না। আমার সাংসারিক জীবনে কোন প্রকার শান্তি নামক শব্দটির প্রয়োগ ছিল না। কিছুদিন পর আমি জানতে পারি সে আমার আগেও অনেকগুলো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল এবং আমার পরেও সে পরকীয়ায় লিপ্ত ।

আমি জানতে পারি নাঈমা সুলতানা তৃষা (২৫)নামে  মেয়ের সাথে আমার বিবাহের ডকুমেন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন একসাথে বসবাস করছে। বিয়ে করা থেকে শুরু করে বিয়ে ভাঙ্গা অব্দি তার পরিবার তাকে সব ধরনের সাপোর্ট করে থাকে।  বিশেষত তার খালা তার বাড়িতে ভুক্তভোগী সকল মেয়েকেই আশ্রয় দেন এবং বিয়ের জন্য রাজি করে থাকেন।

তোফায়েল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার  শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শারীরিক এবং মানসিকভাবে  টর্চার করত, তার মা ও খালা যৌতুক দাবি করত। এক পর্যায়ে   আমার পরিবার এর কাছ থেকে সাংসারিক কিছু আসবাবপত্র স্বর্ণালংকারসহ , নগদ টাকা প্রায়– দুই লাখ বিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মাদারীপুরের মেয়ে ফরিয়া (১৮)জানান, তোফায়েলে সাথে দুই বৎসর মত পরিচয় ছিল  । এক সপ্তাহের মধ্যেই তার আসল চেহারা বেড়িয়ে আসে ,নানান অজুহাতে আমার কাছে থেকে টাকা দাবী করেন, টাকা না দেওয়াতে আমার  বিবাহ জীবন দুর্বিসহ করে তুলেন,  তার অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে  আমার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বললে তারা আমাকে নিয়ে আসে। ফারিয়া আরো জানান, তিনি তোফায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ।

 

একাধিক মেয়ের সাথে বিয়ের তালাকনামা

সামিরা আফরিন (ছদ্মনাম)  জানান,  -চার বছর প্রেমের  সম্পর্ক এর পর তিন মাসের বিবাহ জীবন অতিবাহিত করি। এই তিন মাসে শারীরিক এবং মানসিক অসহ্যকর যন্ত্রণা সহ্য করার পর বাধ্য হয়ে আমার পরিবার সেখান থেকে আমাকে নিয়ে আসে।

ভুগ্তভুগি মুন্নি আক্তার (২৩) জানান,  -তোফায়েলের সাথে আমার ৮/ ৯মাসের সাংসারিক জীবন অতিবাহিত হয়। সেখানে টাকার জন্য  অসহ্যকর ঘটনা প্রতিনিয়তই করত আমার সাথে। আমার বাবা-মা জানতে পেরে আমাকে নিয়ে আসে।

তোফয়েলের প্রতারনার বিষয়ে ৭-৮ টি মেয়ের লিখিত অভিযোগ, কল রেকর্ড এবং ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত্যের ছবি  এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে নাঈমা সুলতানা তৃষা  (২৫) নামক একটি মেয়ের সাথে  গাজীপুরে সাংসারিক জীবন অতিবাহিত করছেন।

গাজীপুর পুবাইল থানার ওয়ারেন্ট অফিসার উত্তম কুমার জানান, এখনো আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়না থানায় পৌছায়নি ,গ্রেফতারী পরোয়ানা হাতে পেলেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের করার পদক্ষেপ নেওয়া হেবে ।

২য় –পর্ব

চাকুরী,প্রমোশন দেবার নাম করে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ তোফায়েলে বিরুদ্ধে ।

 

Be the first to write a comment.

Leave a Reply